1. sufalcse55@gmail.com : Sufal Kumar : Sufal Kumar
  2. admin@worldvoice24.com : World Voice24 : World Voice24
সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ১১:০৫ অপরাহ্ন
Mon, 15 July 2024, 11:05 PM

যশোরের শাখাঁরীগাতী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কান্ড! কেজি দরে সরকারি বই বিক্রির সময় গ্রামবাসীর হাতে ধরা।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১
  • ৮৬৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।। অদৃশ্য মহামারি করোনা পরিস্থিতি’তে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে অবিতরণকৃত অন্তত ১৫ মণ নতুন বই বিক্রি করে দেয় যশোর সদর উপজেলার শাঁখারীগাতী এম,এল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় শাখাঁরীগাতী বাজারে বিক্রয়কৃত বস্তাবন্ধি নতুন বই বোঝায় দুই’টি ইজিবাইক আটকে দেয় উপস্থিত জনতা। বিক্রি নিষিদ্ধ সরকারি এসকল বই বিক্রিতে বাঁধ সাধেন তারা। গ্রামবাসী ও উপস্থিত জনসাধারণের তোপের মুখে বিক্রিত বই ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

সরেজমিনে গেলে এই ঘটনার সত্যতা মেলে এসময় স্থানীয়রা সংবাদকর্মীদের জানান- ১৭ আগস্ট ২০২১ মঙ্গলবার সকালে আনুমানিক ১২-১৫ মণ অব্যবহৃত বিভিন্ন ক্লাসের নতুন বই প্রধান শিক্ষক সহ অন্যরা কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের গোপালপুল গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে ভাংঙ্গাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের কাছে। ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন এসব বই তার কাছে বিক্রি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন-অর-রশিদ।

ক্রয়কৃত এসব বই নিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক থেকে স্থানীয়রা বই ভর্তি আমার দুইটি ইজিবাইক আটকে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন বই গুলো আমি কেজি দরে কিনেছি।

এনিয়ে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর-রশিদ বলেন- এসমস্ত বই বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে রাখা ছিলো। করোনায় দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঈদুর ও পোঁকামাকড়ে নষ্ট করে দিচ্ছিলো। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের পরামর্শে বইগুলো বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অবিতরণকৃত বই থাকলে তা সরকারি নিয়মনীতি মেনেই বিক্রি করার কোনো নীতিমালা আছে কিনা এ বিষয়ে আমার জানা নেই।

শাঁখারীগাতী এম,এল মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বই বিক্রির প্রসঙ্গে আমাকে প্রধান শিক্ষক কিছুই জানান’নি। আমি আজই জানতে পারলাম যে স্কুলে পড়ে থাকা অবিতরণকৃত বইগুলো বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। তবে সরকার আমাদের’কে চাহিদা অনুযায়ী বই দেয়নি। সেজন্য আমরা প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরোনো বইগুলো সংগ্রহ করে বইয়ের ঘাটতি পুরণ করি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরে স্থানীয় অভিভাবক মোঃ আবুল খায়ের তিনি বলেন, স্কুলে প্রতিবছর পুরাতন বই জমা দিয়ে নতুন বই নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরিবহন খরচ বাবদ ৫-১০ টাকা নেয়া হয়। এছাড়াও এ্যাসাইনমেন্টের বাহানায় শিক্ষর্থীদের কাছ থেকে ৭০ টাকা করে তোলা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর নামে কৌশলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ৩’শ-৫’শ টাকা হাতিয়ে নেয়। কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভিভাবকদের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা করেন না। তবে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ বিষয়গুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন।

এবিষয়ে যশোর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম. মুনিম লিংকন জানান, কোনো ভাবেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি এসমস্ত বই বিক্রি করতে পারেনা। তারা অবিতরণকৃত বইগুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে পারবে। একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসের দায়িত্বরদের নেতৃত্বে এসব বইগুলোর বিক্রয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার রেওয়াজ আছে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির ইচ্ছা খুশিমত এই অবিতরনকৃত বইগুলো বিক্রয়ের বিষয়ে অবশ্যই সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করবে। উল্লেখ্য, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বই বিক্রি বিষয়ে কোন রেজুলেশন দেখাতে পারেনি। এঘটনার পর এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ত্রুটি,বিচ্যুতি সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ শিক্ষাঙ্গনে পরিনত করার আশা রেখে সুষ্ঠু তদন্ত শেষে এমন নেক্কারজনক ঘটনায় বিচারের দাবী এলাকাবাসীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
© সর্বসত্ব সংরক্ষিত 2023 WorldVoice24 || All Rights Reserved.